আদালতপাড়ায় স্মৃতির আঁকিবুঁকি
প্রথম প্রথম ভাবতাম, বার কাউন্সিলের সনদ থাকলেই বুঝি মানুষ বলবে ‘লার্নেড’ আর সেই সাথে আয়-ইনকামও হবে প্রচুর! কিন্তু পুরোটাই মোহের জাল। আসল স্ট্রাগল শুরু হয় আইনজীবীদের সনদ পাওয়ার পরই।
পৃথিবীর অন্যান্য পেশার চেয়ে আইনপেশা স্বতন্ত্র। এটা চাকরি নয়, এখানে নেই পদোন্নতি বা মাসিক বেতনের নিরাপত্তা। প্রত্যেক আইনজীবীকেই নিজের অবস্থান নিজ হাতে গড়ে নিতে হয় — নিজের রুটি-রুজির পথ নিজেই খুঁজে নিতে হয়।
একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী আদালতের চত্বরে পা রাখেন বুকভরা স্বপ্ন আর শেখার অফুরন্ত আগ্রহ নিয়ে। কিন্তু দিন গড়ায়, মাস পেরোয়, বছর চলে যায়, শিক্ষানবীশ থেকে হন নিবন্ধিত আইনজীবী, তবু যেন শেখার শেষ নেই— ক্লান্তি জমতে থাকে পায়ের তলায়, অথচ পকেট থেকে যায় ফাঁকা। তখনই টের পাওয়া যায় এই পেশার কঠিন বাস্তবতা।
এই বিভাগের নাম “পথচিহ্ন”, কারণ এখানে আমরা সংরক্ষণ করি সেইসব চিহ্ন, যা আইনজীবীরা জীবনের পথে রেখে যান — স্বপ্ন, সংগ্রাম, হতাশা, আনন্দ, বেদনা এবং সাফল্যের গল্পে।
এখানে যেমন শিক্ষানবীশ আইনজীবী তুলে ধরেন তাঁর প্রথম দিনের আদালতের গল্প, অথবা নবীন আইনজীবী বলেন প্রথম শুনানির অভিজ্ঞতা, তেমনি প্রবীণ আইনজীবীর কলমে উঠে আসবে স্মৃতিময় অতীত কিংবা জীবনের শিক্ষামূলক বাঁকবদল।
এছাড়া আমরা প্রকাশ করি প্রতিথযশা আইনজীবীদের জীবনী, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়।
এই বিভাগ মনে করিয়ে দেয় আইনমন্ত্রী জন স্কট (John Scott, 1st Earl of Eldon) এর বিখ্যাত উক্তি:
“একজন আইনজীবীকে সফল হতে হলে ঘোড়ার মতো পরিশ্রম করতে হয় এবং সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতে হয়।”
(To succeed as a lawyer, a man must work like a horse and live like a hermit.)
— এই কথাটি শুধু কথার কথা নয়, বরং প্রতিদিন আদালতের করিডোরে হেঁটে চলা প্রতিটি আইনজীবীর নিঃশব্দ জীবনবোধ।
প্রথম প্রথম ভাবতাম, বার কাউন্সিলের সনদ থাকলেই বুঝি মানুষ বলবে ‘লার্নেড’ আর সেই সাথে আয়-ইনকামও হবে প্রচুর! কিন্তু পুরোটাই মোহের জাল। আসল স্ট্রাগল শুরু হয় আইনজীবীদের সনদ পাওয়ার পরই।
আমি আনন্দিত হলাম এটা উপলব্ধি করে যে, আইনের বেড়াজালে বন্দী হলেই মানুষের জীবন যান্ত্রিক হয়ে যায় না। আইনজীবী হিসেবে জীবন পার করে দিলেও যে সাহিত্যরসে নিজেকে বিলীন করা যায়, সেটা প্রকাশ স্যারের সাহিত্যরস আর শুদ্ধতায় ঘেরা কথাগুলো না শুনলে হয়তো জানাই হতো না।